
ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ইসলামের আগমন ঘটে মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবদ্দশায়। রাসূলের মক্কি যুগেই। সাহাবিও ছিলেন এই ভূখণ্ডে। তাঁর নাম হজরত তাজউদ্দিন (রা.)।
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম এবং সাহাবি বর্তমান কেরালা অঞ্চলের পেরুমাল রাজ্যের শেষ রাজা 'চেরামান ভারমা পেরুমাল' বা এই তাজউদ্দিন (রা.)। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মুজেজা চন্দ্র দ্বি-খণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেন এবং নবির ব্যাপারে আরব বণিকদের কাছ থেকে জানতে পেরে ইসলাম কবুল করেন।
শুধু ইসলাম গ্রহণ নয়; রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় এই উপমহাদেশে মসজিদও নির্মিত হয়। কেরালা রাজ্যে ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন 'চেরামান জুম্মা মসজিদ' নির্মিত হয় ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাত হয় ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে। ভারতের বহুল প্রচারিত সংবাদ মাধ্যম THE TIMES OF INDIA লিখছে- "This masjid is believed to be established in 629 AD"অর্থাৎ চেরামান জুম্মা মসজিদটি ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়।
Cheraman Perumal, the king of Kodungallur, once had an unusual dream of the moon splitting into two. He shared this with traders from Arabia who interpreted the dream as a message from the Prophet. Cheraman Perumal, it is said, travelled to Madina to meet Prophet and embraced Islam. But he died on his way back and is now buried in Salalah, Oman. Before dying, he instructed his travel companions, led by a companion of Prophet, Malik Bin Dinar, to spread message of Islam in his homeland. This group of travellers came to Kerala and established the Cheraman Masjid and other mosques in the state.'
অর্থাৎ কেরালার কোদুনগালুর অঞ্চলের রাজা চেরামান পেরুমাল চন্দ্র দ্বি-খণ্ডিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আরব বণিকদের সাথে কথা বলেন। তারা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিষয়ে স্পষ্ট করেন। নবিকে দেখার জন্য পেরুমাল মদিনায় গমন করেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। নবীর সাথে সাক্ষাৎ শেষে প্রখ্যাত সাহাবি মালিক ইবনে দিনার (রা.)সহ আরও কিছু সফরসঙ্গীকে সাথে নিয়ে কেরালা ফেরত আসার পথে মারা যান। ওমানের সালালায় তাঁর কবর রয়েছে।
মৃত্যুর আগে পেরুমাল মালিক ইবনে দিনারসহ সঙ্গীদের ওসিয়ত করে যান, তারা যেন তাঁর জন্মভূমিতে ইসলামের সুমহান বাণী পৌঁছিয়ে দেয়। এই কাফেলা কেরালায় আসে। সেথায় চেরামান মসজিদসহ আরও বিভিন্ন মসজিদ নির্মাণ করে। সাহাবি মালিক ইবনে দিনার হচ্ছেন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম মসজিদ নির্মাণকারী।'
টাইমস অব ইন্ডিয়ায় পেরুমালের মদিনায় গমনের কথা লেখা হলেও The Indian EXPRESS-এর প্রতিবেদনে মক্কায় গমনের কথা লেখা হয়েছে।
"Cheraman Perumal is said to have been satisfied by the interpretation and soon travelled to Mecca and embraced Islam."
The Times of India Ges The Indian EXPRESS- উভয়ের বিবরণই সঠিক হতে পারে। কারণ, চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনা ঘটে হিজরতের কিছু আগে। রাজা পেরুমাল আরব ব্যবসায়ীদের কথা যাচাই-বাছাই করে এখানে থাকাকালীন ইসলাম গ্রহণ করেন। একজন মুসলিম হিসেবে রাসূলের সাথে সাক্ষাৎলাভ করতে যান। যদিও কোনো কোনো বিবরণে পাওয়া যায়, তিনি রাসূলের কাছে গিয়েই ইসলাম গ্রহণ করেন। এমনও হতে পারে যে, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার ঘটনার কিছু দিন পর তিনি মক্কার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। হয়তো সেথায় পৌঁছতে পৌঁছতে রাসূল তত দিনে মদিনায় হিজরত করে ফেলেছেন। মক্কার উদ্দেশ্যে পেরুমাল রওয়ানা করে পরে মদিনায় পৌঁছান।
কারণ মক্কা থেকে মদিনার দূরত্ব কম, কিন্তু ভারত থেকে আরব যাওয়া সে সময় অনেক দিনের ব্যাপার ছিল অথবা তিনি মক্কায় গিয়েছিলেন। রাসূল (সা.) মদিনায় হিজরতের পর তিনিও মদিনায় যান। সেই মদিনা থেকে ভারতে ফেরার পথে ওমানে মারা যান। তবে এটা সত্য, তিনি রাসূলের সাথে দেখা করেন এবং ইসলাম গ্রহণ করে তাজউদ্দিন নাম ধারণ করেন। দশম হিজরি সনে মারা যান বলে এক লেখায় পাওয়া যায়।
He thus became the first royal Malabari convert to Islam and his Muslim name was Tajuddin. Tajuddin passed away in Shahar Mukhalla, in the Aeab Peninsular, reportedly in Hijrah 10.
প্রাচীনত্বের কারণে চেরামান মসজিদটি ভারতীয় সরকারের কাছে খুবই গুরুত্বের দাবিদার। প্রত্নসম্পদের আওতাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৬ সালে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি আরব যান। সে বছরের ৩ এপ্রিল বাদশাহ সুলতান বিন আব্দুল আজিজের সাথে বৈঠকের সময় প্রাচীন এই মসজিদের একটি স্বর্ণ-মুদ্রিত প্রতিকৃতি উপহার দেন। ওইদিন ভারতীয় নিউজ চ্যানেল 'জি নিউজ' প্রতিদেন করে,
'The Prime Minister today (April 03, 2016) gifted His Majesty King Salman bin Abdulaziz Al Saud a gold-plated replica of the Cheraman Juma Masjid in Kerala.'
সৌদি বাদশাহর সাথে বৈঠক শেষে এক টুইট বার্তায় ওইদিনই ওই মসজিদ এবং পেরুমাল সম্পর্কে নরেন্দ্র মোদি পেরুমালকে সাহাবি হিসেবে উল্লেখ করে ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার কথা তুলে ধরেন। The PM tweeted on 3 April 2016 says :
In Thrissur district, Cheraman Juma Masjid is believed to be the first mosque built by Arab traders around 629 AD. Cheraman Juma Masjid is symbolic of active trade relations between India and Saudi Arabia since ancient times. According to oral tradition, Cheraman Perumal was the Chera King and a contemporary of the Holy Prophet. Cheraman Perumal went to Arabia and embraced Islam after meeting the Holy Prophet at Mecca.'
নরেন্দ্র মোদি তাঁর কথায় পেরুমালকে 'contemporary’ শব্দের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবি-ই বুঝিয়েছেন। যদিও ইংরেজি এই শব্দের মানে হচ্ছে সমসাময়িক। এই মসজিদ শুধু ভারতের প্রাচীন মসজিদ নয়। ইসলামের ইতিহাসের প্রথম ১০টি মসজিদেরও একটি।
(The first mosque in India and one of the oldest mosques in the world.)
এই মসজিদ প্রমাণ করে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মক্কি জীবনেই ইসলাম এ ভূখণ্ডে খুবই শান্তিপূর্ণভাবে আগমন করে এবং এর বিস্তৃতিও ঘটে শান্তিপূর্ণভাবে।
(The Masjid is the symbol of peaceful entry of Islam into the Indian subcontinent followed by the centuries of harmonious coexistence of religions.)
যেহেতু এই মসজিদের নাম সাহাবি চেরামান পেরুমাল-এর নামানুসার হয়েছে 'চেরামান জুম্মা মসজিদ' হিসেবে, অতএব এটা স্পষ্ট পেরুমাল উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম এবং রাসূলের সাহাবি ছিলেন। সাহাবির হওয়ার সকল শর্ত তার মাঝে ছিল।
(Cheraman fulfilled all the three conditions (to become a Sahabi) and can be said that he was the only Sahabi from Kerala, known to history.)
কোনো কোনো বিবরণে পাওয়া যায়, পেরুমাল ১৭ দিন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে ছিলেন। 'তাজউদ্দিন' উপাধি লাভ করেন। এই তাজউদ্দিনই তার মুসলিম নাম।
(According to Keralan legend, Cheraman Perumal, the Chera king, went to Arabia where he met Muhammad and embraced Islam and changed his name to Tajuddin.)
হজরত আবু সাইদ খুদরির একটি হাদিসে পাওয়া যায় যে, ভারত থেকে একজন রাজা রাসূল (সা.)-কে হাদিয়া পাঠিয়েছিলেন। The Hadith says:
'A king from India presented the Messenger of Allah with a bottle of pickle that had ginger in it. The Prophet distributed it among his companions. I also received a piece to eat.'
মাওলানা আকরাম খাঁর 'মুসলিম বাংলার সমাজ' বইয়ের উদ্বৃতি দিয়ে একজন লিখেন, 'উপমহাদেশের দক্ষিণাত্যের রাজা পেরুমাল হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত স্ব-চক্ষে দর্শন করে রাসূলের কাছে উপস্থিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।ভারতবর্ষে ইসলামের আগমনের ব্যাপারে সুরজিৎ দাশগুপ্ত তার ভারতবর্ষ ও ইসলাম গ্রন্থে লিখেন-
"ভারতে ইসলামের আগমনের ইতিহাস লেখার সময় ঐতিহাসিকরা প্রায় অনিবার্যভাবে কোনো সামরিক সংঘাতের কাহিনি খোঁজেন। সেজন্য তাঁরা মুহম্মদ ইবনে কাশিমের অথবা সুলতান মাহমুদের আক্রমণের বৃত্তান্ত সবিস্তারে লেখেন পরম উৎসাহে, কিন্তু আক্রমণের আগের ঘটনাক্রম সম্বন্ধে তাঁরা নীরব। ইসলাম যখন কোনো বাণিজ্যিক সদ্ভাবের সূত্রে ভারতের ভৌগোলিক সীমানায় প্রবেশ করে, তখনও সে ইতিহাস সম্বন্ধে তাঁরা সম্পূর্ণ নিরুৎসাহী। এর চমৎকার দৃষ্টান্ত হলো বর্তমানের কেরলেরর্ যাঙ্গানোর ৬৩৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৬৪৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে মসজিদ নির্মাণের ঘটনা।
কোচিন থেকে ৩৮ (সম্ভবত কিলোমিটার) দূরে কোডাঙগুলুরে ওই মসজিদটার ধ্বংসাবশেষ এখনও প্রত্যক্ষ করা যায়। এটিই ভারতের মাটিতে প্রথম মসজিদ। কোনো রকম সামরিক অভিযান ছাড়াই এখানে একটা মসজিদ কেন স্থাপিত হয়েছিল তার কারণ অনুসন্ধান করলে জানা যায়, নবি হজরত মুহাম্মদের আবির্ভাবের অনেক আগে আরব বণিকরা সমুদ্রপথে মালাবার উপকূলে বসতি ও বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন করেছিল।
তমিল সঙ্গম সাহিত্যের যুগ থেকেই পলবদের মিত্র পূর্বকথিত চেররা মালাবার উপকূলে রাজত্ব করত এবং চেরদের রাজবংশ পরিচিত ছিল পেরুমল বলে।
পেরুমলদের শাসনপদ্ধতির একটা বৈশিষ্ট্য ছিল বিদেশিদের প্রতি উদার স্বাগতনীতি। তাঁদের রাজ্যে বসবাসকারী বিদেশিদের মধ্যে আরবরাই ছিল প্রধান এবং ওই আরবরা যখন রাসূলের আহ্বানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলমান হয়, তখন তারাই কোনো এক পেরুমল রাজার অনুগ্রহ বা সৌজন্যে ভারতের প্রথম মসজিদটা নির্মাণ করেছিল। তবে সেই রাজার নাম কী ছিল তা নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল, কোথাও ভূমিদানের কোনো ফলক ছিল কি না তাও জানা যায় না, ইমারত সাবুদ সব ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
শুধু ধ্বংসাবশেষের প্রত্নতাত্ত্বিক সাক্ষ্য এই সত্য নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করে যে, ভারতবর্ষে ইসলামের প্রথম প্রবেশ ঘটেছিল আর্যদের মতো পার্বত্যপথে, উত্তর ভারতে অশ্বারোহণে বিধ্বংসী-শত্রুরূপে অস্ত্র হাতে নয়। সম্পূর্ণ বিপরীতভাবে সমুদ্রপথে দক্ষিণ ভারতে পোতারোহণে বণিক-বন্ধুরূপে পণ্য হাতে অর্থাৎ শান্তিপূর্ণভাবে, সম্প্রীতির সঙ্গে ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যে।
এটাই স্বাভাবিক যে, ওই আরব বংশোদ্ভূত মুসলমান বণিকদের সঙ্গে মুসলমান ধার্মিকদেরও আগমন হয়েছিল এবং তাঁদের প্রচারে ও প্রয়াসে ওই নবীন আত্মসমর্থনের তথা শান্তির ধর্মরূপে ইসলাম মালাবার উপকূলবাসীদের জীবনে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পেরুমলদের শেষ রাজা চেরমান পেরুমল ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন ও অন্তিম জীবনে মক্কা চলে গিয়েছিলেন বলে যে কাহিনি ব্যাপক প্রচলিত হয়েছে তার থেকে বোঝা যায়, ওই অঞ্চলের অধিবাসীদের মধ্যে ইসলামের জনপ্রিয়তার গভীরতা।'
সুরজিৎ দাশগুপ্তের এই লেখাও এটা প্রমাণ করে, এই ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের আগমন ঘটে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সময়ে। সুরজিৎ দাশগুপ্তের কথা অনুযায়ী ৬৩৩ থেকে ৬৪৩ সনের মধ্যেও যদি ভারতে প্রথম মসজিদ নির্মিত হয় কেরালায়, তাহলে এ কথা এটার দলালত করে না যে, রাসূল (সা.)-এর জীবদ্দশায় এখানে ইসলামের আগমন ঘটেনি।
সুরজিৎ দাশগুপ্তের এই ৬৩৩ সন রাসূল (সা.)-এর মৃত্যুর পরের সন। আরব থেকে কেরালায় ফিরে এসে জমি অধিগ্রহণ কিংবা গ্রহণ করে মসজিদ নির্মাণ করতে কিছুটা সময় লাগতেই পারে। সুতরাং এটা স্পষ্ট, এখানকার অধিবাসী যেমন রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাহাবি ছিলেন, তেমনি আরবের সাহাবি মালিক ইবনে দিনারসহ আরও সাহাবি রাসূলের জীবদ্দশায় ইসলামের বাণী নিয়ে এই উপমহাদেশে আগমন করেন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে তারা ইসলামের দাওয়াত পৌঁছিয়ে দেন।
এদিকে, লালমনিরহাট জেলায় ৬৯ হিজরির একটি মসজিদ আবিষ্কার হয়। মসজিদটি রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়কের ১ কি.মি দক্ষিণে লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের রামদাস মৌজায়
অবস্থিত।৬৯ হিজরি মানে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মৃত্যুর মাত্র ৫৮/৫৯ বছর পর। লালমনিরহাটে নিশ্চয়ই ৬৯ হিজরির আরও বেশ কয়েক বছর আগ থেকে মুসলিম ছিল বলে সেখানে পরবর্তীকালে মসজিদ গড়ে ওঠে। এই মসজিদের প্রথম সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৮৬ সালে।
(Locals said that the ruins of the mosque were first found in 1986 during clearing of the jungle areas there to make the land arable.)
মসজিদটির কেবল ধ্বংসাবশেষ অবশিষ্ট থাকায় স্থানীয়ভাবে 'হারানো মসজিদ' নামে পরিচিত। এই মসজিদটি নির্মাণ করেছেন মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একজন সাহাবি। ওই সাহাবির নাম হজরত আবু আক্কাছ (রা.)।যে শিলালিপির আলোকে হারানো মসজিদকে ৬৯ হিজরির বলা হচ্ছে, সেই শিলালিপি এখন নানা হাত ঘুরে রংপুরের তাজহাট জমিদারবাড়ির জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
কয়েক বছর আগে লালমনিরহাটের পাশে রংপুরে আরেকটি প্রাচীন মসজিদের সন্ধান পাওয়া যায়। জেলার রমজানপুর গ্রামে এই মসজিদ। এ নিয়ে ২০১২ সালে আল-জাজিরা এ নিয়ে একটি প্রতিবেদনও করে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী।
'In a remote village in northern Bangladesh, Ramzanpur in Rangpur district an amateur British archaeologist Tim Steel has discovered the remains of a mosque believed to be built in the 7th century. The findings could prove the site to be the earliest mosque built in South Asia touching the time of the holy prophet of Islam…. It is intriguing that the discovery of this mosque would affirm speculation of the presence of Muslims arrival in Bengal in the 7th century."
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রংপুরের রমজানপুরে সন্ধান পাওয়া নিদর্শনাবলি একটা প্রাচীন মসজিদের যা সপ্তম শতকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। চেরামান জুম্মা মসজিদকে যেমন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম মসজিদ বলা যায়, এটাকেও এবং লালমনিরহাটের মসজিদকে সেই প্রথম দিকের মসজিদ বলা যায়।
সপ্তম শতকে যে এ দেশে ইসলামের আগমন ঘটেছে সেটা অনেকেরই বিবরণেই রয়েছে। ড. আফিয়া দিল তাঁর গবেষণা প্রবন্ধে লিখেন- 'অনেক ইতিহাসবিদ বলেন, ৭ম শতক থেকেই দক্ষিণ-উত্তর ভারতে এবং বাংলাদেশের চট্রগ্রাম অঞ্চলে অনেক আরব বণিকের কলোনি গড়ে ওঠে।'
আরব বণিকরা এখানে বাণিজ্য করার পাশাপাশি ইসলাম প্রচারের কাজটি করেছেন সযত্নে। এক ইতিহাসবিদ বলেন, 'হজরত মুহাম্মদের ইন্তেকালের ১১৮ বছরের মধ্যে ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকা তথা স্পেন হতে আরম্ভ করে একেবারে ভারতের সিন্ধু নদ পর্যন্ত ইসলামি সভ্যতা বিস্তার লাভ করে।'চেপে রাখা ইতিহাস গ্রন্থে বলা হয়, 'মুহাম্মাদের মৃত্যুর আশি বছর যেতে না যেতেই মুহাম্মদ বিন কাসিমের পূর্বেই অনেক ইসলাম ধর্মাবলম্বীর আগমন ঘটেছে।
তার প্রমাণে বলা যায়, ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা.)-এর সময়ে উসমান নামে এক বিজ্ঞবীরকে আম্মান ও বাইরাইনের গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। সেখান হতে তাঁর ভাই মুগিরাকে ভারতের করাচিতে পাঠান।'
আরবরা ছাড়াও ইসলামের প্রচার-প্রসারের কাজ ধারাবাহিকভাবে যুগে যুগে দ্বীনের দায়ি, মুবাল্লিগ এবং সুফি-দরবেশরদের দ্বারাও হয়েছে। ইসলামি শিক্ষা বিস্তারেও তাঁরা অবদান রেখে গেছেন। একসময় গোটা ভারতবর্ষ মুসলিমরা জয় করে ফেলে। এ ভূখণ্ডও মুসলিম শাসনব্যবস্থার অধীনে চলে আসে।
মুসলিম শাসনামলে ইসলামের বিস্তৃতির পথ আরও সুগম হয়। দ্বীনের দায়ি, মুবাল্লিগ আর পির-মাশায়েখদের পাশাপাশি মুসলিম শাসনব্যবস্থাও ইসলামের বিস্তুৃতিতে ভূমিকা রাখে। ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বঙ্গ বিজয়ের পর পূর্বতন শাসকশ্রেণির শোষণ ও ধর্মীয় ভেদনীতি তথা জাতিভেদের কারণে এ দেশের নীচুবর্ণের হিন্দুগণ দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করেন।
মুসলিম শাসকরা হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করতে জোর-জবরদস্তির আশ্রয় নেননি। জয়া চ্যাটার্জির লেখায়ও হিন্দু শাসনামলে নিম্নবর্ণীয় হিন্দুদের ব্যাপারে জাতিভেদের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তিনি লিখেন, 'বাঙলার ভিন্ন ধরনের অনুপম জাতিভেদ কাঠামোর কারণেই মুসলমান ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার বিষয়টি ব্যাপকভাবে ঘটেছে।'
ইসলামের সাম্য ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ মানবিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা ইসলামের ছায়াতলে এসে আশ্রয় নেয়। এভাবে অতি অল্পকালের মধ্যে হিন্দুপ্রধান এই বাঙলা অঞ্চল মুসলিমপ্রধান অঞ্চলে পরিণত হয়।

_~তথ্যসুত্রঃ বাংলাদেশে ইসলামী রাজনীতির ব্যবচ্ছেদ~_
Comments
Post a Comment